পার্বত্য চট্টগ্রামে রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, মুরগি ২৩০ টাকায়, কলা–লেবু–শসায় দামের ঝাঁপ; স্বস্তি শুধু ডিম ও আলুতে!

পার্বত্য চট্টগ্রামে রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা

জয়নাল আবেদিনঃ রমজান ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা বেড়েছে। ইফতারকেন্দ্রিক চাহিদা বাড়ায় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার (বয়লার) মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কয়েক দফা। বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বাড়তি দামের প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ কলা, লেবু ও শসার দাম সবচেয়ে বেশি অস্থির। কয়েকদিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কাঁচা মরিচের দামও ওঠানামা করছে—একদিন বাড়ছে, আরেকদিন কিছুটা কমছে; বেগুনের দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। আগের তুলনায় ডজনপ্রতি দাম কমেছে বা স্থির আছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। আলুর দামও স্থিতিশীল রয়েছে, যা সাধারণ পরিবারের জন্য সামান্য স্বস্তির খবর।

বড়ইছড়ি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৫২) বলেন, “রমজানে চাহিদা বাড়ে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় আমাদেরও কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

বনরুপার সবজি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম (৫০) জানান, “কলা, লেবু আর শসার চাহিদা এখন অনেক বেশি। সরবরাহে সামান্য ঘাটতি হলেই দাম বেড়ে যাচ্ছে। তবে আলু ও কিছু সবজির দাম এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে।”

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় দামের চাপ দ্রুত বাড়ে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং জোরদারের কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

রমজানের সংযমের মাসে নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে—এমন প্রত্যাশাই এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের।

জয়নাল আবেদিন, কাপ্তাই
+ posts

Similar Posts

Leave a Reply