মাঠ থেকে পাহাড় – ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগের দাবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
গ্রামবাংলার গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, কাবাডি কিংবা হা-ডু-ডুর মতো ঐতিহ্যবাহী খেলার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি খেলাধুলাও আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় সমতলের মাঠ আর পাহাড়ের ঢালে বিকেল নামলেই মুখর থাকত শিশু-কিশোরদের প্রাণচাঞ্চল্যে। এখন সেই জায়গা দখল করেছে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ততা ও মাঠসংকট।
পাহাড়ি জনপদে মারমা, চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব ক্রীড়া-সংস্কৃতি—যেমন ঐতিহ্যবাহী তীর-ধনুক প্রতিযোগিতা, দড়ি টানাটানি, নৌকাবাইচ ও লাঠিখেলা—ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। স্থানীয় উৎসব ঘিরে যে খেলাগুলোর আয়োজন হতো, সেগুলোও এখন সীমিত পরিসরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় ও পাহাড়ি খেলাধুলা টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ—বিদ্যালয়ে দেশীয় খেলা অন্তর্ভুক্তি, উপজেলা পর্যায়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন, মাঠ সংরক্ষণ এবং মিডিয়ায় প্রচার বৃদ্ধি। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে সাংস্কৃতিক উৎসবের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে যুক্ত করলে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে।
সচেতন মহলের মতে, সমতল ও পাহাড়—দুই বাংলার শিকড়ের খেলাধুলা ফিরিয়ে আনতে পারলে শুধু ঐতিহ্য রক্ষা নয়, সুস্থ সমাজ গঠনেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ ও সামাজিক অঙ্গীকার।