🟥 ঈদ ঘিরে জমে উঠেছে কাপ্তাইয়ের কামারপল্লী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কামারের দোকানগুলোতে বেড়েছে ব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারপল্লী। উত্তপ্ত লোহাকে নানা আকৃতিতে রূপ দিতে নিরলস কাজ করছেন কারিগরেরা।
রোববার (২৪ মে) সকালে সরেজমিনে উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের রাইখালী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দম ফেলার ফুরসত নেই কামারশিল্পীদের। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে তৈরি করা হচ্ছে দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও রামদা। পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জামেও ধার দেওয়া হচ্ছে ব্যস্ত সময় পার করে।
রাইখালী বাজারের কামারশিল্পী স্বপন কর্মকার ও কৃষ্ণ কর্মকার জানান, সারা বছর কাজ কম থাকলেও কোরবানির ঈদ এলেই আয় কিছুটা বাড়ে। পূর্বপুরুষের পেশা টিকিয়ে রাখতে তাঁরা এখনও এ কাজ করে যাচ্ছেন।
তাঁরা বলেন, ঈদের আগে অনেকে নতুন দা-বটি কেনেন, আবার কেউ পুরোনো সরঞ্জামে শান দিতে আসেন। সাধারণত কোরবানির এক সপ্তাহ আগে থেকে কাজের চাপ বেড়ে যায়।
কারিগরেরা জানান, একটি দা শান দিতে ১০০ টাকা, বড় বটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ছুরি শান দিতে ৫০ টাকা নেওয়া হয়। নতুন দা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, বটি ২০০ থেকে এক হাজার টাকা এবং ছুরি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায়।
দোকানে আসা ক্রেতা মো. সেলিম, আবুল কাসেম, নাজিম উদ্দীন ও আবুল হাসেম বলেন, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রস্তুতি হিসেবে তাঁরা দা-বটি শান দিতে এসেছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো কাপ্তাই উপজেলায় বর্তমানে নতুনবাজারে একটি এবং রাইখালী বাজারে দুটি কামারের দোকানে এ ঐতিহ্যবাহী পেশার কাজ চলছে।