পার্বত্য রাজনীতির দুই দশকের পথচলার স্বীকৃতি।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হলেন দীপেন দেওয়ান
আবদুল হাই খোকন
দীর্ঘ ২০ বছরের ত্যাগ, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেলেন রাঙ্গামাটি–২৯৯ আসন এর সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। পাহাড়ের রাজনীতিতে একনিষ্ঠ সক্রিয়তা ও ধারাবাহিক জনসম্পৃক্ততার পর এ নিয়োগকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাহাড়ের এই জনপদের অধিকার, উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ে সরব ভূমিকা পালন করেন তিনি। দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, শিক্ষা সম্প্রসারণ ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর দাবিতে তার সরব উপস্থিতি তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ করে তোলে।
দুই দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন নানা পর্যায়ে। মাঠভিত্তিক রাজনীতি, কর্মীসংগঠনে দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি আবারও প্রতিনিধিত্ব করেন রাঙ্গামাটির জনগণের।
পার্বত্য চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন, শান্তি ও সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামোর প্রশ্নে আলোচনায় রয়েছে। নতুন মন্ত্রীর কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—পাহাড়ের বাস্তবতাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, পর্যটন সম্ভাবনার বিকাশ এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ।
দীপেন দেওয়ান বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, পাহাড়ের উন্নয়ন হতে হবে অংশগ্রহণমূলক ও সমন্বিত। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়েই টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি দেবে।
দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।২০০৬ সালে যুগ্ম জজ পদ ছেড়ে বিএনপি’র সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদানের পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ওয়ান -ইলেভেন পরিস্হিতির কারণে নানান চড়াই- উৎরাইয়ের মুখোমুখি হন। নতুন নির্বাচন আইন জটিলতায় পরে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগও হারান তিনি। তবে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে ২০১০ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
দীপেন দেওয়ানের রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে—তৃণমূল সংগঠন গড়ে তোলায় সক্রিয় ভূমিকা,পাহাড়ি অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক দাবি উত্থাপন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পক্ষে জনমত, তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ।
মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে এখন তাঁর দায়িত্ব আরও বিস্তৃত। পার্বত্য অঞ্চলের বহুমাত্রিক সমস্যা—ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয় ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন—সবকিছুর কেন্দ্রে থাকবে তাঁর নেতৃত্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগাতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তিনি নতুন গতি আনতে পারবেন। পাহাড়ের মানুষের আশা—দীর্ঘ সংগ্রামের এই স্বীকৃতি যেন বাস্তব উন্নয়নের রূপ পায়।
দুই দশকের পথচলার পর মন্ত্রিত্বের আসনে বসা দীপেন দেওয়ানের জন্য এটি যেমন ব্যক্তিগত সাফল্য, তেমনি রাঙ্গামাটি ও সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা। এখন দেখার বিষয়, প্রতিশ্রুত উন্নয়নের অঙ্গীকার কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়।