সীতাঘাটে মহাবারুণী স্নান ১৭ মার্চ, ২০৩২ সালে প্রথমবারের মতো মাসব্যাপী ঋষি কুম্ভমেলা
মানিক দাশ, কাপ্তাই।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মাতা সীতা দেবী মন্দির প্রাঙ্গণে আগামী ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র মহাবারুণী স্নান। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে ২০৩২ সালে প্রথমবারের মতো মাসব্যাপী ‘ঋষি কুম্ভমেলা’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিব চতুর্দশী থেকে শুরু হয়ে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে পূর্ণাহুতির মধ্য দিয়ে এ মেলার সমাপ্তি ঘটবে বলে জানিয়েছেন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী জ্যোর্তিময়ানন্দ পুরী মহারাজ।
মহাবারুণী স্নান ও ২০৩২ সালের কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্দিরের নাটঘরে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের প্রতিনিধি ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমলেন্দু বিকাশ দাশ। বক্তব্য দেন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী জ্যোর্তিময়ানন্দ পুরী মহারাজ, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি কর্তৃক মনোনীত কাপ্তাই উপজেলা প্রতিনিধি ঝুলন দত্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কাপ্তাই উপজেলার সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ ধর পিন্টু, কাপ্তাই উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল ভট্টাচার্য, কেপিএম কয়লার ডিপু প্রকল্প হরি মন্দির পরিচালনা কমিটির কার্যকরী সভাপতি রতন কুমার মল্লিক, উর্ধ্বতন সভাপতি প্রিয়তোষ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রুপক কান্তি মল্লিক, অর্থ সম্পাদক আশুতোষ মল্লিক, সীতাঘাট মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সজল মল্লিক, অর্থ সম্পাদক সুমন দত্ত, কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মহিলা সম্পাদক শিপ্রা লোধ, লগগেইট জয়কালী মন্দির মহোৎসব পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. কল্যান চৌধুরী, লগগেইট জয়কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দীপংকর দেবনাথ এবং কাপ্তাই প্রজেক্ট ব্রিকফিল্ড কর্ণফুলি সার্বজনীন মাতৃ মন্দিরের সভাপতি জনার্ধন দাশ।
বক্তারা বলেন, মহাবারুণী স্নান ও ভবিষ্যতের ঋষি কুম্ভমেলাকে ঘিরে সীতাঘাটে ধর্মীয় আবহ ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, মহাবারুণী স্নান ও ২০৩২ সালের ঋষি কুম্ভমেলা সীতাঘাটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় মিলনমেলায় পরিণত করবে এবং কাপ্তাই অঞ্চলে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।