পাঞ্জাবে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নিয়ে বিতর্ক, আট মাসে প্রায় ৯০০ জন নিহতের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক :
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে পুলিশের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ অভিযানে গত আট মাসে প্রায় ৯০০ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, এসব ঘটনার অনেকগুলোতেই যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, যা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Commission of Pakistan (এইচআরসিপি) জানায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত Punjab প্রদেশে পুলিশের বিশেষ অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযানে অন্তত ৯২৪ জন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, ৬৭০টির বেশি ঘটনাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পরিবর্তে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আটক করার পরপরই স্বজনদের ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত’ দেখানো হচ্ছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবারগুলো জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে প্রাদেশিক সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সশস্ত্র গ্যাং দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ফলেই অপরাধের হার কমেছে। পুলিশ বলছে, অভিযানের সময় অপরাধীরা গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি করতে হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা প্রয়োজন হলেও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি; অন্যথায় আইনের শাসন প্রশ্নের মুখে পড়বে।
পাঞ্জাবে চলমান এই পরিস্থিতি এখন শুধু একটি প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা ইস্যু নয়, বরং রাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
*তথ্যসুত্র: আল-জাজিরা, ছবি: রয়টার্স