চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে নববর্ষে সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বার্তায় মুখর হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার (সাংঘিক)। ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে এক অনন্য মিলনমেলা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। এ ধরনের আয়োজন সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম জেলার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জে.বি.এস আনন্দবোধি ভিক্ষু। আশীর্বাদক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বুদ্ধ পণ্ডিত অধ্যাপক ড. জিনবোধি মহাস্থবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সৌরভ প্রিয় পাল।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী, সুধীজনসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ শুধু উৎসব নয়, এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐতিহ্য ও সহাবস্থানের প্রতীক। এ ধরনের সম্প্রীতিমূলক আয়োজন সমাজে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও জোরদার করে।

তারা আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একসঙ্গে নববর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে প্রকৃত সম্প্রীতির বাংলাদেশ।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যা সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুসংহত করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
+ posts

Similar Posts

Leave a Reply