‘চমকপ্রদ উন্নয়ন হবে, মানুষ দেখবে পরিবর্তন’—মন্ত্রী হয়ে প্রথমবার রাঙামাটিতে দীপেন দেওয়ান
আবদুল হাই খোকন : মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাঙামাটিতে এসে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তাঁর আগমনকে ঘিরে শহরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ফুল ছিটিয়ে, হাত নেড়ে ও স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পার্বত্য মন্ত্রী রাঙ্গামাটিতে পৌঁছালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে বরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পরে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মন্ত্রী স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
রাঙামাটিতে পৌঁছামাত্রই স্থানীয় নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। পার্বত্য এলাকা রাঙ্গামাটিতে পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যায় প্রত্যাশা ও আশার সঞ্চার। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, “উন্নয়ন হবে এমনভাবে, যা মানুষ চমক হিসেবে দেখবে। তিন পার্বত্য জেলায় সুসম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার স্পষ্ট। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নির্দেশনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের নেতা জননেতা তারেক রহমান বলেছেন—আমরা জনগণের সেবক। জনগণের সেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এটি আমাদের কমিটমেন্ট।”
মন্ত্রী বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতের সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ১৮০ দিনের একটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীপেন দেওয়ান বলেন, “এগুলো শুধু বিএনপির দাবি নয়, এগুলো জনগণের দাবি। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নেই আমাদের কাজ করতে হবে। পাহাড়ে বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মন্ত্রীর এই সফর পার্বত্যবাসীর প্রত্যাশাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।