কাপ্তাই হ্রদে জেলেদের জীবনসংগ্রাম: মাছ কমছে, বাড়ছে ব্যয়; তবু সম্ভাবনার খোঁজে প্রান্তিক জনপদ।
আবদুল হাই খোকন, রাঙামাটি।
পাহাড়ে ঘেরা বিশাল জলরাশির নাম কাপ্তাই হ্রদ। এই হ্রদই হাজারো জেলে পরিবারের ভরসা। ভোরের আলো ফুটতেই নৌকা নিয়ে জলে নামেন তাঁরা; দিনশেষে যা মেলে, তাই দিয়ে চলে সংসার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জীবনযুদ্ধে নতুন করে চাপে পড়েছেন জেলেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত ও অবৈধ জাল ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে নিয়মভঙ্গ এবং জলস্তরের অস্বাভাবিক ওঠানামা মাছের প্রজননে প্রভাব ফেলছে। আগে যেখানে একদিনের জালে মিলত ভালো পরিমাণ কাতলা, রুই বা তেলাপিয়া, এখন সেখানে অনেক সময়ই খালি হাতে ফিরতে হয়। আড়তে ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ডিজেল, বরফ, জাল ও নৌকা মেরামতের খরচ বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতে অনেকে দাদন নেন; মাছ কম পেলে ঋণ শোধে হিমশিম খেতে হয়। সামাজিক সুরক্ষা ও বীমা সুবিধা সীমিত হওয়ায় দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে।
বর্ষা ও ঝড়ো হাওয়ায় হ্রদ উত্তাল হয়ে ওঠে। ছোট নৌকা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবে ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় আবহাওয়ার আগাম বার্তা না পাওয়াও বিপদের কারণ হয়।
মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, প্রজনন মৌসুমে কঠোর নজরদারি ও অবৈধ জাল নিয়ন্ত্রণ জরুরি। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ, জেলেদের জন্য বীমা, শীতল সংরক্ষণ ও সরাসরি বাজারসংযোগ বাড়ানো গেলে আয় বাড়তে পারে। মাছ চাষ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণও স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
কাপ্তাই হ্রদের জলে ভেসেই জেলেদের জীবন। সংকটের ভাঁজে ভাঁজে থাকলেও তাঁরা আশাবাদী—সমন্বিত উদ্যোগ নিলে এই হ্রদই আবার ফিরিয়ে দিতে পারে স্বস্তির দিন।