রাঙামাটিতে প্রাপ্য রাজস্ব না পেয়ে উন্নয়ন থমকে: জেলা পরিষদের কাছে ইউএনও’র চিঠি
রাঙামাটি প্রতিনিধি: প্রাপ্য রাজস্ব বকেয়া থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে কাউখালী উপজেলা প্রশাসনে। হাটবাজার ও টোল পয়েন্ট ইজারা থেকে প্রাপ্ত নির্ধারিত অর্থ দীর্ঘদিন ধরে না পাওয়ায় উপজেলা পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী হাটবাজার ইজারা আয়ের ২০ শতাংশ এবং টোল পয়েন্ট ইজারা আয়ের ৪৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের তহবিলে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু কাউখালী উপজেলা পরিষদ দীর্ঘ সময় ধরে এ প্রাপ্য অংশ পাচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্য, নির্ধারিত রাজস্ব না পাওয়ায় সড়ক সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণ, ছোটখাটো অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের সম্মানী ভাতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর ইউএনও কাজী আতিকুর রহমান তাঁর চিঠিতে দ্রুত বকেয়া অর্থ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে রাজস্ব অংশ হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী বান্দরবান জেলাসহ অন্যান্য জেলায় সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো নিয়মিত তাদের প্রাপ্য অংশ পাচ্ছে, যা কাউখালীর ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, প্রাপ্য অর্থ সময়মতো না এলে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। এতে সাধারণ জনগণ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলের উপজেলা পরিষদগুলোর আর্থিক সক্ষমতা অনেকাংশেই নির্ভর করে ইজারা ও টোল আদায়ের ওপর। সেই রাজস্ব বণ্টনে অসামঞ্জস্য দেখা দিলে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। কাউখালী উপজেলায় চলমান পরিস্থিতি তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।