মাদকমুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: পার্বত্যমন্ত্রী

আহমদ বিলাল খান, রাঙামাটি

‘বিপথগামী যুব সমাজকে আলোর পথে ফিরিয়ে এনে একটি মাদকমুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠন করাই আমাদের সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ’ এমন মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।

গতকাল রাতে রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সূর্যোদয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রাঙ্গামাটি শাখার উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈষু, বিষু, সাংক্রান, চাংলান, পাতা ও বিহু উপলক্ষে পাজন রান্না প্রতিযোগিতা এবং ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, যুব সমাজ দেশের প্রধান শক্তি হলেও পরিকল্পিতভাবে তাদের একটি অংশকে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।

তিনি মাদকাসক্তির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাদকের কোনো ইতিবাচক দিক নেই; এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ; সবকিছুকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাদক ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও ইচ্ছাশক্তিকে মাদকমুক্ত জীবনের প্রধান উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রসঙ্গে দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাজন রান্না প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনও সুদৃঢ় করে।

আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী পাজন রান্না প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সূর্যোদয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি ডা. অজয় প্রকাশ চাকমার সভাপতিত্বে বিভিন্ন পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
.

+ posts

Similar Posts

Leave a Reply