বৃষ্টির সুরে চন্দ্রঘোনায় বর্ষার বন্দনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
মেঘে ঢাকা আকাশ। চারপাশে বৃষ্টির আবেশ। সেই আবহে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির ছন্দে চন্দ্রঘোনায় যেন জীবন্ত হয়ে উঠল বর্ষা। প্রকৃতির স্নিগ্ধ ঋতুকে বরণ করে নিতে কাপ্তাইয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বরবৃত্তের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘বর্ষা বরণ’ অনুষ্ঠান।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চন্দ্রঘোনা ত্রি-ধা নৃত্য একাডেমির প্রশিক্ষণ ভবনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এক ঘণ্টার আয়োজনে কখনো মেঘের ডাক, কখনো বৃষ্টির ঝরঝর শব্দ, আবার কখনো প্রেম, বিরহ ও প্রকৃতির আবেশ—গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে বর্ষার বহুমাত্রিক রূপ। শিল্পীদের পরিবেশনায় মঞ্চজুড়ে তৈরি হয় বর্ষার স্নিগ্ধ আবহ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সংগীত পরিচালক ঝুলন দত্ত। তিনি বলেন, বর্ষা শুধু প্রকৃতির একটি ঋতু নয়, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে বর্ষার যে সৌন্দর্য ও আবেগ উঠে এসেছে, তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বরবৃত্তের পরিচালক, আবৃত্তিশিল্পী ও কণ্ঠশিল্পী তামান্না ইসলাম। আবৃত্তির গ্রন্থনা ও নির্দেশনাতেও ছিলেন তিনি। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন নৃত্য প্রশিক্ষক সঙ্গীতা দত্ত এনি।
আয়োজনের শুরুতে দলীয় আবৃত্তিতে ‘বর্ষার গান’ পরিবেশন করা হয়। এরপর দীনা, সৃষ্টি, ইন্দিরা, পুষ্পিতা ও অধরার অংশগ্রহণে দলীয় নৃত্য পরিবেশিত হয়। তাদের ছন্দময় পরিবেশনায় বর্ষার রূপ-রস-গন্ধ যেন ছড়িয়ে পড়ে পুরো মঞ্চে।
একক গান পরিবেশন করেন সম্পূর্ণা সাহা। তবলা সঙ্গতে ছিলেন অর্ণিবান দত্ত। একক আবৃত্তি করেন শালোমী আস্থা বিশ্বাস। দলীয় নৃত্যে অংশ নেন দীনা, সৃষ্টি, পুষ্পিকা ও ইন্দিরা। দ্বৈত নৃত্যে মুগ্ধতা ছড়ান সৃজিতা দত্ত ও শালোমী আস্থা বিশ্বাস। সবশেষে একক কবিতা আবৃত্তি করেন তামান্না ইসলাম।
আয়োজকেরা বলেন, বর্ষা বাংলার প্রকৃতির পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিরও এক অনন্য ঋতু। বৃষ্টির ধারা যেমন প্রকৃতিকে সজীব করে, সাংস্কৃতিক চর্চাও তেমনি মানুষের মনন ও সৃজনশীলতাকে প্রাণবন্ত করে। সেই ভাবনা থেকেই স্বরবৃত্তের এ আয়োজন।
চন্দ্রঘোনার সাংস্কৃতিক পরিসরে এক ঘণ্টার এ আয়োজন নিছক বর্ষা বরণে সীমাবদ্ধ থাকেনি; গান, নৃত্য ও কবিতার সুরে হয়ে উঠেছিল প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক মায়াময় মিলনমেলা।