রাঙামাটিতে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবন উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নবনির্মিত ৬ তলা ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, এমপি।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নবনির্মিত এই আধুনিক হাসপাতাল ভবনে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে আইসিইউ, এমআরআই, সিটি স্ক্যান সহ অত্যাধুনিক সেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব সুবিধা পুরোপুরি চালু হলে পাহাড়ি অঞ্চলের রোগীদের আর উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহরে যেতে হবে না
রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন নুয়েন খীসার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রীতি প্রসূন বড়ুয়া, রাঙ্গামাটি সেনা জোন কমান্ডার লে.কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, গণপূর্ত বিভাগের রাঙামাটি নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোছাইন, রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও শওকত আকবর খান সহ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। রাঙামাটির এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। ইতোমধ্যে চক্ষু বিভাগের অপারেশন সেবা চালু হয়েছে এবং অন্যান্য বিভাগ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও স্থাপনের কাজ চলছে।
তবে জনবল সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্রুত সব বিভাগ চালু হলে রাঙামাটি ছাড়াও আশপাশের দুর্গম এলাকার মানুষ সহজেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই হাসপাতাল ভবন পার্বত্য অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।