কাপ্তাইয়ে এতিমদের পাশে ইয়ুথ ক্লাব ও হাসপাতাল
আবদুল হাই খোকন :
পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিকতার অনন্য সমন্বয়ে কাপ্তাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল। কাপ্তাই ইয়ুথ ক্লাব ও কাপ্তাই ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল প্রায় শতভাগ প্লাস্টিকমুক্ত—যেখানে একটি প্লাস্টিকের বোতলও ব্যবহার করা হয়নি।
মঙ্গলবার(১৭ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি শুধুমাত্র ইফতার মাহফিলেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অসহায় এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক বার্তা। আয়োজনের শুরুতেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
আয়োজকদের ভাষ্যমতে, এই সফল উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাপ্তাই ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যদের আন্তরিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার পাশাপাশি মানবিক চিকিৎসক ডা. কামরুল হাসান সোহেলের দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব আয়োজন উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ইফতার ব্যবস্থাপনাতেও ছিল চমৎকার সমন্বয়। প্রায় ২০০ জনের জন্য প্রস্তুতি থাকলেও উপস্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ জনে। এ অবস্থায় লগ গেইট ও নতুন বাজার এলাকার স্বেচ্ছাসেবকরা দ্রুততার সঙ্গে খাবার বিতরণ করে পরিস্থিতি সামাল দেন, যা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।
এছাড়াও শিল্প এলাকা, স-মিল, নেভীরোড, শিলছড়ি, কোর্ট বিল্ডিং, জেটিঘাট ও বাঁশকেন্দ্র এলাকার তরুণরা তীব্র রোদ উপেক্ষা করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে পুরো আয়োজনকে সুশৃঙ্খল রূপ দিতে সহায়তা করেন।
অল্প সময়ের মধ্যে গড়ে ওঠা কাপ্তাই ইয়ুথ ক্লাব ইতোমধ্যে তাদের কর্মদক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। শতাধিক তরুণের এই সংগঠনটি ভবিষ্যতে কাপ্তাই অঞ্চলে সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আয়োজকরা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, “দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ”—এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলে কাজ করায়ই এমন সফল আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।