ঈদে পর্যটকের অপেক্ষায় রাঙ্গামাটি-সাজেক; প্রস্তুত পর্যটন খাত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের বরণে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সেবার মানোন্নয়নের কাজ।
স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে তারা আশা করছেন। সেই লক্ষ্যে প্রশাসন, হোটেল-রিসোর্ট মালিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে চলছে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম। ঝুলন্ত সেতু এলাকাকে নতুনভাবে রঙ করা হয়েছে এবং আশপাশের পরিবেশকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য নৌভ্রমণের সুবিধা বাড়াতে ট্যুরিস্ট বোটগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হ্রদের বিভিন্ন ঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
এদিকে সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ‘বাংলার ভূস্বর্গ’খ্যাত এই পর্যটন কেন্দ্রে ইতোমধ্যে অনেক রিসোর্ট ও কটেজে অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে আবাসন খাতে ব্যাপক সাড়া মিলছে। অনেক হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে রেস্তোরাঁগুলোতেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি।
শুধু পর্যটন কেন্দ্রই নয়, স্থানীয় হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের দোকানগুলোতেও দেখা গেছে ব্যস্ততা। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তৈরি হাতের কাজের পোশাক, অলংকার ও কারুশিল্প পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও নিয়েছে কড়া ব্যবস্থা। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আগমন বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। এতে হোটেল-রিসোর্ট, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও হস্তশিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়-হ্রদের মেলবন্ধন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে রাঙামাটি ও সাজেক এবার ঈদে পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে যাচ্ছে।