🟥 লেক-নদী-পাহাড়ের মোহে ঈদে কাপ্তাইয়ে পর্যটকের ঢল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে রাঙামাটির কাপ্তাই যেন পরিণত হয়েছে পর্যটকদের মিলনমেলায়। কাপ্তাই লেক, কর্ণফুলী নদী আর সবুজ পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন শত শত ভ্রমণপ্রেমী। ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা প্যানোরোমা জুম রেস্তোরাঁ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা। কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষা এই পর্যটনকেন্দ্রে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শিশুদের জন্য বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। অনেকে নৌকায় চড়ে নদী ভ্রমণ করছেন, আবার শিশুরা বিভিন্ন রাইডে আনন্দে মেতে উঠেছে।
ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আসা পর্যটক আমির হাসান, নুসরাত জাহান ইমা ও ইকফা নিশিতা বলেন, “প্রথমবারের মতো কাপ্তাইয়ে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। নদী, পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির সমন্বয় আমাদের মুগ্ধ করেছে।”
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকা থেকে আসা ফাহিম ও আরাফাত ইসলামও একই অভিমত জানিয়ে বলেন, “কাপ্তাইয়ের পরিবেশ খুবই মনোরম। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এটি আদর্শ একটি জায়গা।”
অন্যদিকে শিলছড়ির নিসর্গ রিভার ভ্যালি অ্যান্ড পড হাউসেও ছিল পর্যটকদের ব্যাপক ভিড়। সেখানে ঘুরতে আসা নোয়াখালীর বসুরহাটের নুরুল আলম ও মিজানুর রহমান বলেন, “বন্ধুদের নিয়ে প্রথমবারের মতো কাপ্তাইয়ে বেড়াতে এসেছি। জায়গাটির সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করেছে। কর্ণফুলী নদীর ওপর কেবল কার চালু হলে পর্যটনের আকর্ষণ আরও বাড়বে।”
নিসর্গ রিভার ভ্যালি অ্যান্ড পড হাউসের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন জানান, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে তাদের সব কটেজ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এবার ঈদে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পর্যটক পেয়েছি। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য অনেকেই আমাদের রিসোর্টকে বেছে নিয়েছেন।”
কাপ্তাইয়ের আরেক জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র শিলছড়ি ফ্লোটিং প্যারাডাইসের পরিচালক মো. সোহেল বলেন, “ঈদ উপলক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক পর্যটক এসেছেন। বিশেষ করে আমাদের রেস্টুরেন্টের খাবারের মান ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।”
কর্ণফুলী নদীতে পর্যটকদের নিয়ে নৌভ্রমণ করানো বোটচালক মনা বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিদিন পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকে নৌভ্রমণে বের হচ্ছেন।”
এদিকে নৌবাহিনী পরিচালিত লেক প্যারাডাইস, সেনাবাহিনী পরিচালিত জীবতলী লেকশোর, লেকভিউ ও রিভারভিউ, কাপ্তাই লেকের বুকে অবস্থিত রাইংখ্যং আইল্যান্ড, শিলছড়ি পাহাড়িকা পিকনিক স্পট, চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এবং বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রেও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, “ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”
ঈদের আনন্দ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর নিরাপদ পরিবেশ—সব মিলিয়ে কাপ্তাই এবারও হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য। পাহাড়, লেক ও নদীর অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেক পর্যটকই জানিয়েছেন, সুযোগ পেলেই তাঁরা আবারও ফিরে আসবেন এই সবুজ-নীল প্রকৃতির শহরে।