গুজব নয়, উৎসবের প্রস্তুতিতে কাপ্তাই প্রশাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানিয়েছে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষ ‘কিন্নরী’তে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পূজা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ করেন।
সভায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই ৩৮ বীরের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন শামসির আরেফিন, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মামুন, চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, উপপরিদর্শক (এসআই) দূর্জয় সরকারসহ উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দেন কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম, কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সভাপতি কবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কাপ্তাই উপজেলা শাখার সভাপতি দীপক কান্তি ভট্টাচার্য, পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক জগদীশ চন্দ্র দাশ, পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ ধর পিন্টু এবং ১১৯ নম্বর ভাইয্যাতলী মৌজার হেডম্যান থোয়াই অং মারমাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা।
সভায় উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, অগ্নিনিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পূজা শেষে বিসর্জন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সবাইকে দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে হবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়।