হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে কাপ্তাইয়ে মহা বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত
ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই
মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে প্রাগৈতিহাসিক তীর্থস্থান রাঙামাটির কাপ্তাই সীতাঘাট শ্রীশ্রী মাতা সীতা মন্দিরে মহা বারুণী স্নান উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত সনাতনি সম্প্রদায়ের ভক্তরা ঐতিহাসিক কর্ণফুলি নদীতে স্নান, সীতা মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির, কালি মন্দিরে পুজা দেওয়া এবং মহাপ্রসাদ গ্রহনের মাধ্যমে মা সীতা দেবীর কাছে তাদের মনের বাসনা ব্যক্ত করেছেন। এই উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ ও সীতা মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে সীতা মন্দির। ঐতিহাসিক এই মন্দিরে বিভিন্ন নির্দশন ঘুরে ফিরে দেখছেন ভক্তরা।
মহাবারুণী স্নানে রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান হতে আসা শিক্ষক অভিজিৎ সরকার ও শিক্ষক বুলবুলি কর্মকার বলেন, ঐতিহাসিক এই পবিত্র তীর্থ স্থানে আসতে পেরে নিজেদেরকে পূর্নবান মনে হচ্ছে। আমরা মা সীতা দেবীর বিভিন্ন নির্দশন ঘুরে ফিরে দেখছি এবং মহাবারুণী স্নানে স্নাত হয়ে পবিত্র হচ্ছি।
চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া ধলঘাট হতে আসা এনজিও কর্মকর্তা তুষার দে বলেন, আজকে এখানে এসে মা সীতা মন্দির দর্শন করলাম এবং বারুনী স্নান করলাম।
চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সৈয়দবাড়ি হতে আসা পলাশ চক্রবর্তী এবং রাঙ্গুনিয়া কানুখীল গ্রাম হতে আসা ভক্ত শিমুল চক্রবর্তী বলেন, প্রাগৈতিহাসিক সীতাঘাট মন্দিরে এসে মহা বারুনী স্নানে অংশ নিলাম। বিভিন্ন মন্দির দর্শন করলাম।
সীতাঘাট মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমলেন্দু বিকাশ দাশ জানান, ঐতিহাসিক এই সীতা মন্দিরে বিগত ২৬ বছর ধরে ভক্তরা আসছেন। সীতা মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির, কালি মন্দির সহ মা সীতার বিভিন্ন ঐতিহাসিক নির্দশন দেখছেন ভক্তরা।
মা সীতা মন্দির এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দ পুরি মহারাজ বলেন, এটা সনাতনী সম্প্রদায়ের জন্য একটি পবিত্র তীর্থ স্থান। এখানে মা সীতা মন্দির এর পাশাপাশি দেবাদিদেব এর মন্দির, কালি মন্দির এবং গঙ্গা মন্দির আছে। আমরা ২০৩২ সালে মাস ব্যাপি এখানে ঋষি কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই মন্দিরের উন্নয়ন এর জন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি সমীর প্রসাদ ধর বলেন, এটা একটা ঐতিহাসিক তীর্থ স্থান, এই স্থানকে ঘিরে এখানে মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে।
এদিকে মহা বারুনী স্নান উপলক্ষে মন্দির পরিচালনা কমিটির আয়োজনে মন্দির প্রাঙ্গনে এদিন বেলা ১২ টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন। এসময় তিনি বলেন, এই বারুনী স্নান উদযাপন উপলক্ষে আজকে এখানে জাতি ধর্ম বর্ণ সকল মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। এটি একটি সনাতন সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক তীর্থস্থান। এই তীর্থস্থান যাতে পূর্ণাঙ্গ রুপ নেয়, সেইজন্য আমরা পাশে আছি।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমলেন্দু বিকাশ দাশ এর সভাপতিত্বে কাপ্তাই প্রেসক্লাব ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সম্পাদক ঝুলন দত্তের সঞ্চালনায় এসময় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য দয়াল দাশ। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, যুব এর প্রাক্তন সভাপতি পুস্পেন বড়ুয়া কাজল,
বাংলাদেশ মহাতীর্থ উন্নয়ন কমিটি চন্দ্রনাথধাম, সীতাকুণ্ড এর সাধারণ সম্পাদক রত্নেন্দু ভট্টাচার্য্য।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু কল্যান ট্রাস্টের ট্রাষ্টি কর্তৃক মনোনিত রাঙামাটি
জেলা প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি রাঙামাটির সভাপতি আশীষ কুমার চৌধুরী, হিন্দু, বৌদ্ধ, কল্যান ঐক্য ফ্রন্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জিকু দে, কাপ্তাই উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কান্তি ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ ধর পিন্টু, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন ফ্রন্ট্র রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক রুপক মল্লিক রাতুল, কাপ্তাই উপজেলার ১ নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন, ওয়াগ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য অজিত কারবারি, কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সম্পাদক নাট্য ব্যক্তিত্ব আনিছুর রহমান, কাপ্তাই উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আল নাহিয়ান ডালিম, কাপ্তাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো: রফিক, সাবেক ছাত্র দল নেতা মোশাররফ হোসেন অপু, কাপ্তাই উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা বাবুল কান্তি দে, রাঙামাটি জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের প্রচার সম্পাদক পুলক শীল, কাপ্তাই উপজেলা সনাতন ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অভি সাহা প্রমুখ,
স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আশীষ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে গীতাপাঠ করেন সীতা ঘাট মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দ পুরি মহারাজ।