কাপ্তাইয়ে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
কবির হোসেন, কাপ্তাই
“আলোর নিচে অন্ধকার”—এই চিত্রই এখন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বাস্তবতা। যেখানে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়, সেখানেই প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন।
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড গরমে রাতে ও দিনে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী পাভেল হোসেন ও শারমিন জাহান জানান, “রাতে কিংবা দিনে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। পরীক্ষায় কী ফল হবে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”
অভিভাবক ফিরোজ মিয়া ও সোলেমান হোসেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন।”
শুধু শিক্ষা খাতই নয়, লোডশেডিংয়ের প্রভাবে কাপ্তাইয়ের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। কয়েকটি কারখানা মালিক জানান, সময়মতো কাজ ডেলিভারি দিতে না পারায় অর্ডার বাতিল হচ্ছে, ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবে প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও বর্তমানে পানি স্বল্পতার কারণে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কেন্দ্র এলাকাতেই ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “দুটি লাইন পর্যায়ক্রমে বন্ধ ও চালু করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি। পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এলাকায় এমন দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং “আলোর নিচে অন্ধকার” পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।