🟥 করলিয়া প্রকল্পে বদলাচ্ছে পাহাড়ি জনপদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা দক্ষিণ দেবতাছড়ি এলাকায় করলিয়া প্রকল্পের আওতায় বিশুদ্ধ পানির সুবিধা, হাঁস-মুরগি পালন এবং ঘরের আঙিনায় সবজি চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্তত ৮০টি পরিবার। দীর্ঘদিনের পানিসংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি জীবিকায়ও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
কাপ্তাই উপজেলার ৫ নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৌমিতা তনচংগ্যা ও সন্তোষ তনচংগ্যা জানান, তাদের পাড়ায় প্রায় ৮০টি তনচংগ্যা পরিবারের বসবাস। আগে এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট ছিল। স্থানীয়রা ছড়া ও কুয়ার পানি ব্যবহার করতেন। এতে নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে ভুগতে হতো।
তারা বলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে, কানাডা সরকারের অর্থায়নে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় পরিচালিত “স্থানীয় নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক অভিযোজনের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি” শীর্ষক করলিয়া প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালে সৌরশক্তিচালিত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এর ফলে এখন প্রতিটি পরিবার ঘরের আঙিনায় বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাচ্ছে এবং এলাকার দীর্ঘদিনের পানিসংকট অনেকটাই দূর হয়েছে।
এলাকার আরেক বাসিন্দা কনিকা তনচংগ্যা ও সপ্ত রানী তনচংগ্যা বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সেই অর্থ দিয়ে তারা হাঁস-মুরগি পালন ও ঘরের আঙিনায় সবজি চাষ শুরু করেছেন। এতে পরিবারে বাড়তি আয় হচ্ছে এবং তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
তারা আরও জানান, করলিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) ও খামারজাত জৈব সার তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিজেদের তৈরি জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে শুধু জীবনমানের উন্নয়নই নয়, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টায় করলিয়া প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পের সুফল তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।