🟥 কাপ্তাইয়ে অসহায় তনচংগ্যা পরিবার, সহায়তার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের উত্তর দেবতাছড়ি এলাকার বাসিন্দা ইতিস তনচংগ্যা এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একদিকে বাবার ক্যান্সারের চিকিৎসা, অন্যদিকে স্ত্রীর প্যারালাইসিস—দুই গুরুতর অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। আর্থিক সংকটে চিকিৎসা ব্যয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিস তনচংগ্যার বাবা অনিল তনচংগ্যা দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি চট্টগ্রামে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ফাহামিদা আলমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি তাদের সহায়-সম্পত্তির অনেকটাই বিক্রি করে ফেলেছে। এতে পরিবারটির আর্থিক অবস্থা ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়ে।
এর মধ্যেই নতুন করে বিপর্যয় নেমে আসে পরিবারটিতে। ইতিস তনচংগ্যার স্ত্রী সান্তনা তনচংগ্যা হঠাৎ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা, ওষুধ ও দৈনন্দিন খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই পরিবারের দুইজন গুরুতর অসুস্থ সদস্যের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন ইতিস তনচংগ্যা।
অসহায় পরিবারের এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে বাংলাদেশ তনচংগ্যা কল্যাণ সংস্থা, কাপ্তাই অঞ্চলের সভাপতি অজিত কুমার তনচংগ্যা তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পরিবারটির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, এনজিও, মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারি দপ্তরগুলোর প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিরঞ্জিত তনচংগ্যাও পরিবারটির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিবারটির খোঁজখবর নিতে কাপ্তাই প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিক আলমগীর হোসেন কবির ও মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন তাদের বাড়িতে যান। তাঁরা পরিবারের বর্তমান দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা না পেলে পরিবারটি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের এগিয়ে আসা জরুরি।