ভয়েস হান্টের ফাইনালে ৪১ কণ্ঠে সুরের বহুরূপী আয়োজন

রবীন্দ্রনজরুল থেকে লোকগীতি, আধুনিক আঞ্চলিক গান; ছিল হিন্দিইংরেজির পরিবেশনাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীতের মাধুর্য, নজরুলসংগীতের গায়কির বৈচিত্র্য, আধুনিক ও লোকগীতির আবেদন। সঙ্গে আঞ্চলিক গান, হিন্দি ও ইংরেজি গানের পরিবেশনাও। নানা ঘরানা ও ভাষার গানে গতকাল সোমবার দিনভর মুখর ছিল চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট। সেখানে ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর ফাইনাল রাউন্ডে ৪১ প্রতিযোগী নিজেদের কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরেন।

পেশাদার যন্ত্রশিল্পীদের সংগঠন চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার আয়োজনে সোমবার (৩১ আগষ্ট) সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগিতা। প্রথম রাউন্ডে শতাধিক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বাছাই হয়ে ৪১ জন ফাইনালে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

ফাইনালে প্রতিযোগীদের পরিবেশনায় উঠে আসে সংগীতের নানা ধারা। কেউ রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত দিয়ে বিচারকদের মুগ্ধ করেন, কেউ আধুনিক, লোক ও আঞ্চলিক গানে নিজের দক্ষতা তুলে ধরেন। আবার কয়েকজন প্রতিযোগী হিন্দি ও ইংরেজি গান পরিবেশন করে দেখান তাঁদের কণ্ঠের বহুমাত্রিকতা।

প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন দেশসেরা যন্ত্রশিল্পী অভিজিৎ চক্রবর্তী, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য (সজল), সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী সুব্রত দাশ অনুজ, ব্যান্ডশিল্পী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মুবিন এবং রায়হান আল হাসান।

প্রতিযোগীদের সঙ্গে যন্ত্রসঙ্গতে ছিলেন কিবোর্ডে নিখিলেশ বড়ুয়া, অক্টোপ্যাডে অনুজিত বড়ুয়া লিমন, তবলায় প্রীতম আচার্য্য, বেইস গিটারে তন্ময় বড়ুয়া এবং লিড গিটারে সুচয়ন দে। তাঁদের সুর ও ছন্দের সমন্বয়ে প্রতিযোগীদের পরিবেশনা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠান চলাকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আয়াজ মাবুদ, সংগীতশিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ, সমাজসেবক মিন্টু দাশ ও প্রভাস দে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন। তাঁরা এ আয়োজনের প্রশংসা করেন।

আয়োজক ও বিচারকেরা বলেন, ‘ভয়েস হান্ট’ শুধু প্রতিযোগিতা নয়; তরুণ কণ্ঠশিল্পীদের নিজেদের দক্ষতা যাচাই ও সংগীতের বিভিন্ন বিষয়ে শেখারও একটি সুযোগ। নিয়মিত চর্চা, প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এখান থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী উঠে আসবেন।

প্রতিযোগীদের জন্যও ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি। গত ২৬ জুলাই চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুরু হয় ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর প্রথম রাউন্ড। প্রাথমিক বাছাই শেষে নির্বাচিত ৪১ জনকে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ গ্রুমিং করানো হয়। সুর, তাল-লয়, বিভিন্ন ঘরানার গান, শুদ্ধ উচ্চারণ, মঞ্চ পরিবেশনা, ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপনাসহ নানা বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মঞ্চে উপস্থাপনার পাশাপাশি মেকআপ নিয়েও দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ধারণা।

ফাইনাল প্রতিযোগিতা শেষে রাত ১০টার দিকে প্রাথমিকভাবে ১২ জন প্রতিযোগীর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপের নাম তখন ঘোষণা করা হয়নি।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

ফাইনালে অংশ নেওয়া ৪১ প্রতিযোগীর প্রত্যেকের হাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সনদ ও বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর আহ্বায়ক এস এম শাজাহান সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সংকলন বড়ুয়া ও প্রতিযোগিতার সদস্যসচিব রুবেল বড়ুয়া।

এ সময় সংগীতশিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ, চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার সভাপতি হিল্লোল রায়, সাবেক সভাপতি মনোজ সরকার ও লায়ন প্রবীর দত্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম চন্দ বাপ্পি, অর্থ সম্পাদক পিযুয সেন, দপ্তর সম্পাদক ডা. দুলাল কান্তি চৌধুরী, প্রকল্পবিষয়ক সম্পাদক রনি বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক পার্থ সারথী বিশ্বাস, সদস্য জগলুল পাশা, রাজীব নন্দীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দিনভর সুর, তাল ও লয়ের এই আয়োজন শেষ হলেও প্রতিযোগীদের জন্য ‘ভয়েস হান্ট’ যেন শেষ নয়। বরং নতুন কণ্ঠের সন্ধানের পাশাপাশি সংগীত শেখা, চর্চা ও আত্মবিশ্বাস তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই শেষ হয়েছে এবারের ফাইনাল।

নিজস্ব প্রতিবেদক
+ posts

Similar Posts

Leave a Reply