কক্সবাজার থেকে সাইকেলে ৩৮ দিনে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে বীর কুমার
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। ৩৮ দিন পর সেই যাত্রা গিয়ে থামল হিমালয়ের ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতায়। নেপালের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছেন রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের সাইক্লিস্ট ও অভিযাত্রী বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছান তিনি।
বীর কুমারের দাবি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে স্থলপথে সাইকেলে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানো প্রথম বাংলাদেশি ও প্রথম আদিবাসী সাইক্লিস্ট তিনি।
‘সি টু হিমালয়াস—এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ নামে এই অভিযানের শুরু কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে। রক্তদান ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির বার্তা নিয়ে বাংলাদেশের পতাকা সঙ্গে করে সাইকেলে হিমালয়ের পথে যাত্রা করেন তিনি।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর আগে কয়েক দিনের ব্যবধানে হিমালয়ের একাধিক দুর্গম চূড়া ও গিরিপথ অতিক্রম করেন বীর কুমার।
১৮ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৮৩ মিটার উচ্চতার নাংকার্তশাং পিক সামিট করেন তিনি। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চূড়ায় পৌঁছান। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৫৫০ মিটার উচ্চতার ছুকুং রি পিক সামিট করেন। সেখানে পৌঁছান বিকেল ৪টা ৫১ মিনিটে।
২১ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার কংমা লা পাস অতিক্রম করেন বীর কুমার। দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে পাসটিতে পৌঁছান তিনি। এর পরদিন এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছান।
এর আগে সাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। সাইকেল ভ্রমণের মাধ্যমে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা এবং রক্তদান ও পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কাজও করেন তিনি।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর বীর কুমার বলেন, ‘স্বপ্ন বড় হলে পথ যত কঠিনই হোক, থেমে যাওয়া যায় না।’
দীর্ঘ এই অভিযাত্রায় যাঁরা সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, তাঁদের ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও সহযোগিতাই তাঁকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে হিমালয়ের এই উচ্চতায় পৌঁছাতে শক্তি দিয়েছে।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছালেও অভিযান শেষ হয়নি। সামনে থাকা লক্ষ্যগুলো পূরণ করে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার প্রত্যয় জানিয়েছেন বীর কুমার।
সমুদ্র থেকে হিমালয়—সাইকেলের দুই চাকায় ৩৮ দিনের এই যাত্রায় বীর কুমারের স্বপ্ন এখন পৌঁছেছে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে।