খেজুর আমদানি : ২৩টি দেশ থেকে পৌঁছায় বাংলাদেশে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের খেজুর বাজারে এখন আর শুধুই মধ্যপ্রাচ্যের উৎসেই নির্ভর করছে এমন ধারণা আর পুরোপুরি ঠিক নয়। গ্লোবাল খাদ্যভোমিকা বদলাচ্ছে, ভোক্তা চাহিদা বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বাড়ার ফলে দেশে বাজারে খেজুরের বৈচিত্র্য বেড়েছে।
অর্থনৈতিক স্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত ২০ বছর আগে বাংলাদেশের খেজুর আমদানির প্রায় সবটাই সীমাবদ্ধ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। ২০০৫–০৬ অর্থবছরে সর্বমোট আমদানি হয়েছিল মাত্র ২০ থেকে ২২ হাজার টন, যার প্রায় ৭৩ শতাংশ এসেছে ইরান থেকে এবং প্রায় ২২ শতাংশ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর সাম্প্রতিক হিসাব মতে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোট ২৩টি দেশ থেকে প্রায় ৯২ হাজার টন খেজুর আমদানি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ থেকে এসেছে মোট আমদানি পরিমাণের প্রায় ৮৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, আফ্রিকার চার দেশের অংশ প্রায় ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং বাকিটুকু এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।
এতে সাধারণ বাজারে প্রায় ১৫ থেকে ২০ প্রকারের খেজুর পাওয়া যায়, যা ভোক্তাদের সারা বছর চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের খেজুর আমদানি করার অন্যতম নতুন উৎস। সেখানে উৎপাদিত ‘মেডজুল’ জাতের খেজুরের আমদানি বিশেষভাবে বাড়ছে। ২০১৫ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র ৩১৪ কেজি খেজুর আমদানি করা হলে পরবর্তী সময়ে তার পরিমাণ ক্রমে বাড়তে থাকে।
২০২৫ সালের খেজুর আমদানির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া ‘মেডজুল’ খেজুরের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪৭ হাজার কেজি এবং তা ঢাকার উত্তরা ফ্রুটসের মাধ্যমে বাজারে এসেছে।
বিশ্ব খাদ্য বাণিজ্যের পরিধি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে প্রায় ৩৭টি দেশে মোট ১ কোটি টনেরও বেশি খেজুর উৎপাদিত হয়েছে, যার মধ্যে আমেরিকার অবস্থান উচ্চস্তরে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, খাদ্য প্রাত্যহিক চাহিদা, স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটানোর কারণেই বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের খেজুর সহজলভ্য হচ্ছে। ফলে এখন শুধু রমজান বা উৎসবের সময় নয়, সারা বছরই খেজুর বাজারে পাওয়া যায়।