রূপসী কাপ্তাইয়ের গোলটেবিলে উন্নয়নের রূপরেখা
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাাঙামাটির কাপ্তাইয়ে উন্নয়নের বহুমাত্রিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক। কাপ্তাই থেকে প্রকাশিত মাসিক সাময়িকী রূপসী কাপ্তাইয়ের আয়োজনে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে কাপ্তাইয়ের শিলছড়ি এলাকায় অবস্থিত ফ্লোটিং প্যারাডাইস রেস্টুরেন্টে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও কাপ্তাই ওয়াগ্গা টি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রশীদ কাদেরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।
রূপসী কাপ্তাইয়ের সম্পাদক সাংবাদিক কাজী মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কাপ্তাই কর্ণফুলি পেপার মিল লিমিটেড (কেপিএম)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ্, কাপ্তাই বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সহ-ব্যবস্থাপক তীর্থ জিৎ রায়, কেপিএম-এর মহা ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন, উৎপাদন বিভাগের প্রধান মোঃ মইদুল ইসলাম, ওয়াগ্গা টি লিমিটেডের পরিচালক খোরশেদুল আলম কাদেরী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম, কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব হাসান বাবু, কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত, কেপিএম স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক হারুন আল রশীদ, চন্দ্রঘোনা মা মনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক দ্বীন মোহাম্মদ এবং মানবাধিকার কর্মী নুর বেগম মিতা।
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা কাপ্তাই উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কাপ্তাইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে হবে। পর্যটন খাতে আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করলে কাপ্তাই দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
বক্তারা কাপ্তাই অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত চন্দ্রঘোনার কেপিএম মিলকে পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার দাবি জানান তারা। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা ফিরে আসবে বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
আলোচনায় কাপ্তাইকে মৌজা হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তারা মনে করেন, প্রশাসনিক কাঠামোর উন্নয়ন ঘটলে এই অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
বৈঠকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এসব শিল্পকে ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।
এ অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলমূলকে প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। পাশাপাশি কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সবশেষে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, পর্যটন, শিল্প, কৃষি ও শিক্ষা—এই চারটি খাতকে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন করতে পারলে কাপ্তাই একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হবে।