কাপ্তাইয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান: অবৈধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে ধ্বংস
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। জব্দকৃত কারেন্ট জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে, যা এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার শিলছড়ি এলাকায় কাপ্তাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫-এর ধারা ৫(ক) অনুযায়ী পরিচালিত অভিযানে অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানকালে ১০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গাড়া জাল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কারেন্ট জাল ঘটনাস্থলেই জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অপরদিকে, জব্দ করা গাড়া জাল মৎস্য অফিসে সংরক্ষণ করা হয়েছে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কারেন্ট জালের ব্যবহার দেশের মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারণ এটি নির্বিচারে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নিধন করে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই এ ধরনের জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
অভিযান পরিচালনায় কাপ্তাই উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিমল জ্যোতি চাকমা এবং কাপ্তাই থানার পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
মৎস্য বিভাগ জানায়, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে জেলেদের সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে এবং টেকসই মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।