অভাবের সংসার, অবিচল আস্থা, ধানের শীষের টানে চাকরি ছেড়ে ফেরা কার্তিক মল্লিকের গল্প
মানিক দাশ, কাপ্তাই ।
কাপ্তাই উপজেলার ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের কয়লার ডিপু এলাকার বাসিন্দা কার্তিক মল্লিক (৫২)। জীবনযুদ্ধের প্রতিদিনের হিসাব-নিকাশে তিনি এক সাধারণ মানুষ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রশ্নে তিনি একেবারেই আলাদা—নিবেদিতপ্রাণ এক কর্মী।
ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নিতে তিনি সুদূর কক্সবাজারে করা ছোট্ট চাকরিটিও ছেড়ে কাপ্তাইয়ে ফিরে আসেন। সংসারে অভাব-অনটন ছিল, আছে; তবু দলের প্রতি ভালোবাসায় একটুও ভাটা পড়েনি। পরিচিতজনদের ভাষ্য, রাজনীতিকে তিনি পেশা নয়, বিশ্বাস হিসেবে দেখেন।
কার্তিক মল্লিক বলেন, “আমার চাওয়া-পাওয়া কিছুই নেই। দল ভালো থাকুক, দেশ ভালো চলুক—এই একটাই কামনা।” তাঁর কথায় নেই কোনো আড়ম্বর, নেই কোনো প্রত্যাশার তালিকা। বরং আছে নিরাভরণ এক বিশ্বাসের শক্তি।
স্থানীয় এক সিনিয়র নেতা বলেন, “নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা এমনই হন। ব্যক্তিগত কষ্ট, পারিবারিক চাপ—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তারা দল ও আদর্শকে প্রাধান্য দেন।” তাঁর মতে, তৃণমূলের এমন কর্মীরাই রাজনীতির নীরব শক্তি।
প্রতিদিনের জীবনে কার্তিক মল্লিক খুবই সাধারণ। সংসারের টানাপোড়েন সামলে মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা, দলীয় কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ—এসবই তাঁর নিত্যদিনের চিত্র। আশপাশের লোকজন বলেন, নিজের প্রয়োজনের চেয়ে অন্যের পাশে দাঁড়াতেই যেন তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
রাজনীতির মাঠে আলোচনায় প্রায়ই শীর্ষ নেতৃত্বের নাম উঠে আসে। কিন্তু তৃণমূলের এমন মানুষদের গল্প খুব কমই সামনে আসে। কার্তিক মল্লিকদের মতো কর্মীদের নীরব ত্যাগ আর অদম্য বিশ্বাসই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের ভিতকে মজবুত করে—এমনটাই মনে করেন স্থানীয়রা।
অভাবের সংসার, সীমিত আয় আর অনিশ্চয়তার মাঝেও তাঁর প্রত্যাশা খুব ছোট—দেশ ভালো থাকুক, দল শক্ত থাকুক। ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে দাঁড়িয়ে এমন মানবিক আস্থাই রাজনীতির মাঠে এক ভিন্ন বার্তা দেয়।