🟥 নৌকা চালিয়ে শিক্ষকদের বেতন জোগান দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। সপ্তাহের পাঁচ দিন তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন, আর ছুটির দিনে নৌকার হাল ধরে সাঙ্গু নদীতে পর্যটক পরিবহন করে অর্জিত আয় দিয়ে সহকর্মী শিক্ষকদের বেতন নিশ্চিত করছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমিত অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার অভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। তিনি ২০১৮ সালে কক্সবাজার সিটি কলেজ থেকে এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে বিএড ডিগ্রিও অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষা শেষে শহরের চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজ এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি পাহাড়ে ফিরে আসেন।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পরই তিনি আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিত বেতন আদায় সম্ভব না হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছয়জন শিক্ষকের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ের নামে থাকা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিজেই পরিচালনা শুরু করেন বামং খিয়াং মিংলেন। কোনো মাঝি নিয়োগ না করে প্রতি শুক্র ও শনিবার এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে তিনি পর্যটকদের নিয়ে সাঙ্গু নদীপথে তিন্দুর বড় পাথর ও রেমাক্রী এলাকায় ভ্রমণ করান।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, নৌকা চালিয়ে অর্জিত আয়ের বড় অংশই তিনি সহকর্মী শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে ব্যয় করেন। চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে নৌকা চালিয়ে তিনি প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা আয় করেন, যার অধিকাংশই শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগ তাদের দায়িত্ব পালনে নতুন করে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাদের মতে, তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং বিদ্যালয়ের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষা টিকিয়ে রাখতে বামং খিয়াং মিংলেনের এই উদ্যোগ এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। সীমিত সামর্থ্য সত্ত্বেও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে তার এই ভূমিকা প্রশংসা কুড়াচ্ছে সর্বমহলে।