🟥 কাপ্তাইয়ে কোরবানির পশুর হাটে পাহাড়ি গরুর কদর বেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আনন্দমেলা মাঠে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে পশু কেনাবেচার প্রস্তুতি। হাটজুড়ে এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে পাহাড়ি গরুর।
কাপ্তাই নতুন বাজার আনন্দমেলা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, নানা রঙ ও আকারের গরু নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। জেলার বিলাইছড়ি, জুড়াছড়ি, বরকল ও লংগদুসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে গরু এনে বিক্রি করছেন তাঁরা।
গরু ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, “কাপ্তাই লেকের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি এলাকা থেকে গরু আনতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এবার গরুর দামও কিছুটা বেশি।” দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকে গরু কিনতে আসা আব্দুল মান্নান ও ইলিয়াস জানান, তাঁরা বিশেষভাবে পাহাড়ি গরু কিনতেই কাপ্তাইয়ে এসেছেন। তাঁদের ভাষ্য, পাহাড়ি গরু প্রাকৃতিক খাবার খায়, চর্বি কম এবং তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যবান হয়। এসব গরুকে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা হয় না বলেও দাবি করেন তাঁরা।
হাটে গরু বিক্রি করতে আসা মামুন, নফর আলী, বাবু ও করিম জানান, তাঁরা যৌথভাবে খামার করেছেন। এবার সেই খামারের গরু বিক্রির জন্য হাটে এনেছেন। তাঁদের গরুর দাম দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। সামান্য লাভ হলেই বিক্রি করে দেবেন বলে জানান তাঁরা।
ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ পশু পাশ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও চট্টগ্রামে ছোট-বড় যানবাহনে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কাপ্তাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক হাজারী বলেন, “২০২৬ সালে কাপ্তাই উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৬ হাজার ২০০টি। এর বিপরীতে উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৭টি পশু।”
তিনি আরও জানান, ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন আগে কাপ্তাই নতুন বাজার আনন্দমেলা গরুর হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম কাজ করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জাল টাকা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।