প্রতিকূলতা জয় করে ফলের বাগানে ঘুরে দাঁড়ানো- একজন এনামুলের সাফল্যের গল্প
আব্দুল হাই খোকন।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার শিলছড়ি এলাকার বাসিন্দা এনামুল বাচ্চু (৪৭) প্রমাণ করেছেন—পরিশ্রম আর পরিকল্পনা থাকলে পাহাড়ি জনপদেও ফলের বাগান হতে পারে স্বাবলম্বিতার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি গড়ে তুলেছেন বহুমুখী ফলের বাগান। চলতি মৌসুমে ‘বল সুন্দরী’ জাতের বড়ই চাষ করে লক্ষাধিক টাকা আয় করে তিনি এলাকায় আলোচনায় এসেছেন।
এনামুলের বাগানে আমের মধ্যে কাটি মন, বারোমাসি, আম্রপালি, কাঁচা মিঠা, হাড়িভাঙ্গা, হিমসাগর ও মল্লিকাসহ বিভিন্ন জাতের চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী মৌসুমে লিচুর চায়না থ্রি, চায়না টু, ইন্ডিয়ান কালিপুরী ও বোম্বাই জাত সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। সঠিক জাত নির্বাচন ও নিয়মিত পরিচর্যাকে তিনি সাফল্যের মূলমন্ত্র বলে মনে করেন।
তার বাগানে রয়েছে রাম্বুটান—কাঁটাযুক্ত লালচে এই বিদেশি ফলটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও মৌসুমি আয় বাড়াতে তিনি শীতকালীন সবজি চাষ করেন। ফলে বছরজুড়ে আয় অব্যাহত থাকে।

ফল বৈচিত্র্যে এনামুলের বাগান অনন্য। আমড়া, তেঁতুল, কতবেল, বেল ও আমলকির আলাদা অংশ রয়েছে তার বাগানে। তিনি মনে করেন, এক ফসলে ঝুঁকি না নিয়ে বহুমুখী ফল চাষই নিরাপদ কৌশল।
এ বছর বন্য হাতির আক্রমণে তার বাগান বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক গাছ ভেঙে যায়, ফলন কমে আসে। তবু হতাশ হননি তিনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে আবার পরিচর্যা শুরু করেছেন। স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এনামুল বাচ্চুর আক্ষেপ—আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বড় পরিসরে বাগান সম্প্রসারণ করতে পারছেন না। সরকারি সহায়তা ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ পেলে পাহাড়ি অঞ্চলে আধুনিক ফল চাষের মডেল গড়ে তুলতে চান তিনি।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া নানা জাতের ফল চাষের জন্য উপযোগী। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সরকারি-বেসরকারি সহায়তা বাড়লে এনামুলদের মতো উদ্যোক্তারাই বদলে দিতে পারেন পাহাড়ি অর্থনীতির চিত্র।
এনামুল বাচ্চুর গল্প শুধু একজন কৃষকের সাফল্য নয়; এটি প্রতিকূলতা জয় করে দাঁড়িয়ে থাকার এক অনুপ্রেরণার নাম।