পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের উদ্বোধনে কাপ্তাইয়ে সাংগ্রাই জল উৎসবের বর্ণিল সূচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পুরনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ ও বেদনাকে জল ছিটিয়ে বিদায়—নতুন বছরকে বরণে রঙিন উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠল রাঙামাটির কাপ্তাই। মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘মাহা: সাংগ্রাই রি লং পোয়ে’ বা সাংগ্রাই জল উৎসবকে ঘিরে চিংম্রং বৌদ্ধ বিহার মাঠ পরিণত হয় এক প্রাণের মিলনমেলায়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম ইউনিয়নের চিংম্রং বৌদ্ধ বিহার মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সাংগ্রাই মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব, যা সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ—এ ধরনের উৎসব সেই চেতনারই বহিঃপ্রকাশ।”
সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বেতার শিল্পী সানুচিং মারমা ও সাচিং উ মারমা। এসময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবস্থল হয়ে ওঠে জনসমুদ্র।
মঞ্চে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। একইসঙ্গে মাঠের একপাশে তরুণ-তরুণীরা জল খেলায় মেতে উঠে আনন্দে ভাসেন। পানির ফোঁটায় ফোঁটায় যেন ধুয়ে যায় পুরনো বছরের ক্লান্তি, আর নতুন বছরের জন্য বোনা হয় আশা ও আনন্দের গল্প।
এছাড়া দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং বের করা হয় বর্ণাঢ্য সাংগ্রাই মহা শোভাযাত্রা, যা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
উৎসবে অংশ নেওয়া মারমা তরুণ-তরুণীরা বলেন, “সাংগ্রাই আমাদের প্রাণের উৎসব। আমরা এখানে এসেছি পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে। জল ছিটানোর মধ্য দিয়ে আমরা সব দুঃখ ভুলে নতুনভাবে শুরু করতে চাই।”
প্রাণ, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে সাংগ্রাই জল উৎসব আবারও প্রমাণ করল—বৈচিত্র্যের মধ্যেই বাংলাদেশের সৌন্দর্য, আর উৎসবই পারে মানুষে মানুষে হৃদয়ের সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে।