কাপ্তাই পলিটেকনিকের সামনে বেহাল সড়ক, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রধান ফটকের সামনের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ পথচারীরা। খানাখন্দ ও কাদাপানিতে ভরা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে সড়কটির কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটিতে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় যানবাহনের চাকা থেকে ছিটকে পড়া কাদামাটি ও ময়লা পোশাকে লেগে যায়। অনেক সময় নোংরা পোশাক নিয়েই ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হতে হয়। এতে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান সৌরভ বলেন, “প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। চলাচলের সময় কাদামাটি ও ময়লা শরীরে ও পোশাকে ছিটকে পড়ে। এ অবস্থায় পরিচ্ছন্নভাবে ক্লাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সড়কটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শহীদ মোয়াজ্জম ঘাঁটি, কাপ্তাই বন বিভাগ, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফআইডিসি), পুলিশ সার্কেল অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন। পাশাপাশি রাঙামাটিগামী পর্যটক ও স্থানীয় হাজারো মানুষের যাতায়াতও এ সড়ক দিয়ে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রূপক কান্তি বিশ্বাস বলেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনের সড়কের এমন অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় সড়কের অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ নিরসনে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।