“হৃদপিণ্ডে দুটি ছিদ্র: বাঁচার লড়াইয়ে ১৮ মাসের মেশিং, জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন”
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের কুকিমারা পাড়ায় এক দরিদ্র দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া ১৮ মাস বয়সী শিশু মেশিং ওয়াং মারমা জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটির হৃদপিণ্ডে দুটি ছিদ্র রয়েছে, যা দ্রুত অপারেশন ছাড়া মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা ও বারবার অসুস্থতায় ভুগছে মেশিং। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক জটিলতাও বাড়তে থাকে। একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়, শিশুটির হার্টে দুটি ছিদ্র রয়েছে এবং তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ওপেন হার্ট সার্জারি প্রয়োজন।
কাপ্তাই ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এ কে এম কামরুল হাসান বলেন, “শিশুটির হার্টে দুটি ছিদ্র রয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত ওপেন হার্ট সার্জারি করা না হলে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। যত দ্রুত অপারেশন করা যাবে, ততই তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।”
শিশুটির চিকিৎসায় মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ডা. এ কে এম কামরুল হাসানের নিরলস প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তবে এই অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন কয়েক লাখ টাকা, যা জোগাড় করা পরিবারটির পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমিত আয়ের এই পরিবার ইতোমধ্যে চিকিৎসার খরচ মেটাতে তাদের সামান্য সঞ্চয় ও সম্পদ বিক্রি করে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
শিশুটির স্বজনরা জানান, প্রতিটি দিন তাদের জন্য আতঙ্কের। কখন কী ঘটে, সেই শঙ্কায় দিন কাটছে। তবুও তারা আশা ছাড়েননি। সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা পেলে মেশিংকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, “সবার সামান্য সহযোগিতাই পারে এই শিশুটির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে।”
চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ছে। এমন অবস্থায় সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারটি।
একটি জীবন বাঁচানো মানে একটি পরিবারকে বাঁচানো—এই বিশ্বাস থেকেই তারা সবার সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে মেশিংয়ের জীবনযুদ্ধ—একটু সহানুভূতিই পারে তাকে ফিরিয়ে দিতে নতুন জীবন।