কর্ণফুলীতে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণ: ব্যয় ১৬৫৮৭১.৮৬ লক্ষ টাকা
ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই
রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলা এবং চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মাঝে বয়ে যাওয়া লুসাই কণ্যা কর্ণফুলী নদীর উপর চন্দ্রঘোনা- রাইখালী ফেরিঘাটে ক্যাবল স্টেইট সেতু নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর । আর এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ১৬৫৮৭১.৮৬ লক্ষ টাকা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা এই প্রতিবেদককে বলেন, ইতিমধ্যে সেতুর চুড়ান্ত নক্সা প্রণয়ন করে প্রকল্প প্রস্তাব(ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। বিগত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কর্ণফুলী নদীর উপর চন্দ্রঘোনা ফেরী ঘাটে ক্যাবল স্টেইট সেতু নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সেতুটি নির্মিত হলে এটিই হবে বাংলাদেশে প্রথম ক্যাবল স্টেইট সেতু । তিনি আরোও বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলি নদীর উপর ৫শত ৩২ মিটার ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৪ শত ৫৫ মিটার ভায়াডাক্ট ও ৫শত ১১ মিটার এলিভেটেড সড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় মূল সেতু ও ভায়াডাক্ট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬৮৫০.১৬ লক্ষ টাকা এবং এলিভেটেড সংযোগ সড়ক নির্মাণ সহ অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪২০০.২০ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভায় অনুমোদন হলে নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। সেতুটির নির্মাণকাল ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ হতে ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত।
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর রাঙ্গামাটির উপ সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা বলেন, এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো রাঙামাটি- ঘাগড়া বাংগালহালিয়া-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৬১) এর ২১ তম কিঃমিঃ এ কর্ণফুলী নদীর উপর দৃষ্টিনন্দন চন্দ্রঘোনা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার মধ্যকার সড়ক নেটওয়ার্কটি বাধাহীন, উন্নত, নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সময় ও ব্যসাশ্রয়ী সড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার পর্যটনশিল্পের বিকাশকে ত্বরান্বিত করা। যানবাহন ও মালামাল পরিবহনের জন্য নিরাপদ, টেকসই এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, এই অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘ দিনের একটি স্বপ্ন এই নৌ রুটে সেতু নির্মাণ। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার জনসাধারণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব।