গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রাণ পাবে পার্বত্য জেলা পরিষদ 

পার্বত্য জেলা পরিষদ

রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি–বান্দরবানে প্রতিনিধিত্বমূলক কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান

আহমদ বিলাল খান, রাঙামাটিঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এর জেলা পরিষদগুলোকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। স্থানীয় সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও নাগরিক প্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সময়ের বাস্তবতায় এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব প্রদান করা হয়ে আসছে। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও প্রত্যাশার ঘাটতি রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মত দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো কেবল প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়; এগুলো আঞ্চলিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নির্ধারণে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে।

বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সমান মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনিক কাঠামো আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, ন্যায় ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিক নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের সেতুবন্ধন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্বাভাবিকভাবেই জনগণের কাছে অধিক দায়বদ্ধ থাকেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সামাজিক চাপও থাকে।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকে সময়োপযোগী সংস্কারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি—এমন মতামতই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রত্যাশা, সমন্বিত ও অংশগ্রহণভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও জনমুখী, স্বচ্ছ ও কার্যকর রূপ দেওয়া হবে।

পর্যবেক্ষকদের ভাষায়, “মনোনয়ন নয়, গণতান্ত্রিক নির্বাচনই পারে পার্বত্য জেলা পরিষদে নতুন আস্থা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে।”

আহমেদ বিলাল খান, রাঙামাটি
+ posts

Similar Posts

Leave a Reply