বুনো হাতির তাণ্ডবে দিশেহারা চিৎমরমের পরিবারগুলো, প্রতিকার চান ক্ষতিগ্রস্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৩ নং চিৎমরম ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকায় বুনো হাতির তাণ্ডবে আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রায়ই গভীর রাতে লোকালয়ে নেমে এসে হাতির পাল ঘরবাড়ি, ফলদ ও কৃষিজ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। এতে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের জানান, একাধিকবার বুনো হাতি তাঁর বসতঘর ও সৃজিত বাগানে হামলা চালিয়েছে। এতে কলা, বিভিন্ন ফলদ গাছসহ নানা ধরনের ফসল নষ্ট হয়েছে। ঘরেরও ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিদিন রাত হলেই হাতির ভয়ে ঘুমাতে পারি না। কখন আবার হাতি এসে সবকিছু তছনছ করে দেয়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।”

কাদেরের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন পাখি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “হাতির ভয়ে আমার মেয়ে, জামাই ও নাতি-নাতনিরা আর আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে না। প্রতিটি রাত আতঙ্কের মধ্যেই কাটে।”

একই এলাকার আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বুনো হাতির পাল তাঁর ইক্ষুখেত, কলাবাগান, পানির পাম্পসহ বিভিন্ন কৃষি স্থাপনা ও ফসল নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, “প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে রাত কাটাতে হয়। বন বিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বুনো হাতির উপদ্রব চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত প্রতিকার না হলে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, এলাকায় হাতি আসার খবর তিনি শুনেছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে অবহিত করেননি।

এ বিষয়ে রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের কর্ণফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, চিৎমরমের মুসলিমপাড়া এলাকায় বুনো হাতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কৃষিজ ফসল ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো কাপ্তাই রেঞ্জ কার্যালয় দেখভাল করে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে বুনো হাতির আক্রমণ থেকে জানমাল ও ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
+ posts

Similar Posts

Leave a Reply