🟥 বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ঈশ্বর চন্দ্র তনচংগ্যার বিদায় সংবর্ধনা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঈশ্বর চন্দ্র তনচংগ্যার বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন শিক্ষক। তাঁর বিদায়কে ঘিরে বিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
বুধবার (০৬ মে) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও শুভকামনা জানানো হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি একরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বিদায়ী শিক্ষক ঈশ্বর চন্দ্র তনচংগ্যার কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, একজন আদর্শ মানুষ হিসেবেও শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিচিত ছিলেন। তাঁর আন্তরিকতা, সময়ানুবর্তিতা ও শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছে দীর্ঘদিন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাস, সহকারী শিক্ষক সুলতানা বেগম বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য জাকির হোসেন সুমন, মোঃ মাসুদ এবং প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রতন দাশ সহ আরো অনেকে।
বক্তারা বলেন, ঈশ্বর চন্দ্র তনচংগ্যা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও দায়িত্বশীল। কোমলমতি শিশুদের প্রতি তাঁর স্নেহ-মমতা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ তাঁকে বিদ্যালয় পরিবারের একজন আপন মানুষে পরিণত করেছিল।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক যুথি মারমা। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষককে ফুল, শুভেচ্ছা কার্ড ও উপহার সামগ্রী প্রদান করে। অনেক শিক্ষার্থী বিদায় মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখে বিদায়ী শিক্ষক ঈশ্বর চন্দ্র তনচংগ্যাও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
নিজের বক্তব্যে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই বিদ্যালয়ের স্মৃতি ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আমি আজীবন মনে রাখব। এখানে কাটানো সময় আমার কর্মজীবনের অন্যতম সেরা অধ্যায় হয়ে থাকবে।”
সবশেষে বিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষকের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও সুখী জীবন কামনা করা হয়। সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আন্তরিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।