ডা. অশ্রু কণা চৌধুরীর কলমে: বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবসে হ্যানিম্যানকে স্মরণ
ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই
১০ এপ্রিল, বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস। সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক, শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী, হোমিওপ্যাথির আবিষ্কর্তা মহাত্মা স্যামুয়েল হ্যানিম্যান-এর ২৭১তম জন্মবার্ষিকী ও হোমিওপ্যাথি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ডা. অশ্রু কনা চৌধুরী, ডাঃ জাকির হোসেন সিটি কর্পোরেশন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
তিনি সকল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অনুরাগী এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত রোগীদেরও জানান আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ডা. অশ্রু কনা চৌধুরী তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, মহাত্মা হ্যানিম্যানের জীবনী ও কর্ম অধ্যয়ন, সত্যানুসন্ধান এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর মতে, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও অনুরাগীদের উচিত হ্যানিম্যানের জীবন থেকে বাস্তব শিক্ষা গ্রহণ করা।
১৭৫৫ সালের ১০ এপ্রিল জার্মানির স্যাক্সনির মিসেনে জন্মগ্রহণ করেন হ্যানিম্যান। বহুভাষাবিদ এই বিজ্ঞানী চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, সমাজবিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। প্রথম জীবনে একজন স্বনামধন্য এলোপ্যাথিক চিকিৎসক হলেও চিকিৎসা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে তিনি নতুন পথের সন্ধান করেন।
১৭৯০ সালে ডা. উইলিয়াম কালেনের “A Treatise of the Materia Medica” অনুবাদের সময় সিঙ্কোনা প্রুভিংয়ের মাধ্যমে তিনি ঔষধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন এবং ‘সদৃশ্য নিয়মে আরোগ্য’ নীতির ভিত্তিতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির সূচনা করেন। ১৭৯৬ সালে তিনি এ বিষয়ে প্রবন্ধ প্রকাশ করে ‘হোমিওপ্যাথি’ নামকরণ করেন।
পরবর্তীতে বেলেডোনা, ব্রায়োনিয়া ও রাসটক্সসহ বিভিন্ন ঔষধ প্রুভিংয়ের মাধ্যমে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন এবং মোট ৯৯টি ঔষধের কার্যকারিতা নির্ধারণ করেন। তাঁর রচিত “অর্গানন অব মেডিসিন” গ্রন্থে চিকিৎসা পদ্ধতির মৌলিক নীতিমালা তুলে ধরা হয়।
ডা. চৌধুরী আরও বলেন, হ্যানিম্যান জীবদ্দশায় নানা বাধা-বিপত্তি ও বিরোধিতার সম্মুখীন হলেও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। বরং তিনি বৈজ্ঞানিক ও নীতিনিষ্ঠ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে হোমিওপ্যাথির প্রসারে নিরলস কাজ করে গেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক যুগে প্রাকৃতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে হোমিওপ্যাথি মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হ্যানিম্যানের জীবন ও কর্ম আজও চিকিৎসক ও গবেষকদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।
শেষে ডা. অশ্রু কনা চৌধুরী বলেন, হ্যানিম্যানের শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করে হোমিওপ্যাথির গবেষণা, চিকিৎসা ও প্রসারে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, যাতে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় এই পদ্ধতি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।